Wednesday, April 10, 2013

এক গ্লাস দুধ



milk
এইচ এম শরীফ উল্লাহ
অনুদিত
********************
একদিন এক দরিদ্র বালক তার স্কুলে যাতায়াতের খরচ উপার্জন করার উদ্দেশ্যে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পণ্যদ্রব্য বিক্তি করছিল। এতে সে মাত্র দশ সেন্ট উপার্জন করল।এবং সে খুব ক্ষুধা অনুভব করল।
সে ভাবল, সামনের বাড়িতে গিয়ে তার নিজের খাদ্যের জন্য আবেদন করবে। যাই হোক, যখন অল্প বয়স্ক, আকর্ষনীয় একজন মহিলাকে দরজা খোলতে দেখল, তখন সে খাবারের কথা বলতে আর সাহস পেল না, এর পরিবর্তে সে পান করার জন্য পানি চাইল।
মহিলা বালকটিকে দেখে ভাবল, তাকে বেশ ক্ষুধার্ত ও দুর্বল দেখাচ্ছে, তাই তিনি বড় এক গ্লাস ভরে দুধ এনে তাকে দিল। সে ধীরে ধীরে তা পান করল। তারপর সে তাকে জিজ্ঞেস করলঃ “আমি আপনার কাছে কত ঋণী হলাম?”
“এ জন্য আমার কাছে তুমি কোন ঋণী নও,” উত্তরে মহিলা বল্ল। “মা বলেছেন, কারও প্রতি দয়া প্রদর্শন করে তার প্রতিদান হিসেবে কখনও কোন কিছু নিতে নেই।”
“আমার অন্তর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি,” বালক বল্ল।
হাওয়ার্ড কেলি যখন সেই বাড়ি ত্যাগ করল, তখন সে শুধু নিজেকে সুস্থতাবোধ মনে করছে না, সৃষ্টিকর্তার প্রতি ও মানুষের প্রতি তার বিশ্বাসও সুদৃঢ় হল।
অনেক বছর পর, সেই অল্পবয়স্ক মহিলাটি জটিলভাবে অসুস্থ হলেন। এই অসুস্থ মহিলাকে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তার বিপাকে পড়ে গেলেন। তারা রুগীকে বড় শহুরে ডাক্তারের নিকট স্থানান্তর করলেন। পরামর্শ করার জন্য ডাঃ হাওয়ার্ড কেলিকে ডাকা হলো।
রোগীকে যে শহর থেকে নিয়ে আসা হলো, সেই শহরের নাম শুনে অদ্ভুতভাবে তার চোখ চমকে গেলো। তৎক্ষণাৎ তিনি উঠে ডাঃ এর পোশাক পড়ে রোগীর কক্ষে তাকে দেখতে চলে গেলেন। তাকে দেখে তৎক্ষণাৎ ডাঃ হাওয়ার্ড কেলি তাকে চিনতে পারলেন। তিনি ডাঃ দের পরামর্শ কক্ষে চলে এলেন। এবং তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন, যেভাবেই হোক রোগীকে সুস্থ করে তোলতেই হবে। সে দিন থেকে তিনি বিশেষভাবে তার প্রতি মনোনিবেশ করলেন। দীর্ঘ দিন যুদ্ধ চালাবার পর, এ যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হলেন।
অবশেষে হসপিটালের অফিস কক্ষে এই রোগীর বিলের জন্য ডাঃ কেলি আবেদন জানালেন। তিনি বিলের কাগজ দেখে কাগজের মারজিনে কিছু লিখে তা রোগীর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। মহিলা বিলের পেপার চোখের সামনে খুললেন। বিলের অনেক বড় আমাউন্ট দেখে তিনি আঁতকে উঠলেন। তিনি নিশ্চিত হলেন যে, এই বিলের টাকা আদায় করতে হলে তার অবশিষ্ট জীবন শেষ হয়ে যাবে।
চুড়ান্তভাবে তিনি তা আবার দেখলেন, তার চোখ বিলের মার্জিনে গিয়ে আটকে গেল। যখন তিনি পড়লেন এই শব্দগুলোঃ “এক গ্লাস দুধের বিনিময়ে এই বিলের ফুল পেমেন্ট আদায় করা হলো।” (সাইন) ডাঃ হাওয়ার্ড কেলি
আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুতে তার দু’চোখ চিকচিক করে ভিজে উঠলো। তখন তার আনন্দ ভরা মনে সৃষ্টকর্তার নিকট প্রার্থনা জানালেনঃ “ধন্যবাদ হে সৃষ্টিকর্তা তোমাকে! তোমার ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে মানবজাতির অন্তরসমূহে এবং তাদের হাতে।।
***
২৩ টি মন্তব্য
pramanik99শ‍হীদুল ইসলাম প্রামানিক১১ এপ্রিল ২০১৩, ০৬:৫১
ভাল লাগল। ধন্যবাদ
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৪২
ধন্যবাদ শহিদুল ভাই।
শুভেচ্ছা জানবেন। 
shohorab921কবি মন১১ এপ্রিল ২০১৩, ১১:০৫
আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার অশ্রুতে তার
দু'চোখ চিকচিক করে ভিজে উঠলো।
তখন তার আনন্দ ভরা মনে সৃষ্টকর্তার
নিকট প্রার্থনা জানালেনঃ "ধন্যবাদ
হে সৃষ্টিকর্তা তোমাকে! তোমার
ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছে মানবজাতির
অন্তরসমূহে এবং তাদের হাতে।।


ধন্যবাদ গল্পটি পোষ্ট দেওয়ায়
shohorab921কবি মন১১ এপ্রিল ২০১৩, ১১:১৩
ভাই আমি কিছুক্ষণ কাঁদছিলাম । গল্পটি এবং বাস্তবতার ফারাকের কথা চিন্তা করে ।তবু এই ধরনের গল্প সান্তনা দেয় ।গল্পটি আগেও পড়েছি এখনো কয়েকবার পড়লাম ।আরো পড়ব ...
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৪৪
আপনার সুন্দর মন্তব্য পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে। ভালো থাকুন সতত।
bappi76সুখেন্দু বিশ্বাস১১ এপ্রিল ২০১৩, ১১:২৪
সুন্দর অনুবাদ, প্রান ছুঁয়ে যাওয়া গল্প শরীফ দা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুন্দর দৃষ্টান্ত। আজকাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তো উঠেই গেছে।

শুভকামনা সতত। 
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৪৭
সুন্দর অনুবাদ, প্রান ছুঁয়ে যাওয়া গল্প শরীফ দা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুন্দর দৃষ্টান্ত। আজকাল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তো উঠেই গেছে। 

অনেকের জীবন বাস্তবতা তাই দেখতে পাই।
শুভেচ্ছা জানবেন সুখেন্দুদা।
খুব ভালো থাকুন।
rodela2012ঘাস ফুল১১ এপ্রিল ২০১৩, ১১:৪০
আমিও এই একই লেখা ফেবুতে পেয়ে পোষ্ট দিয়েছিলাম অনেকদিন আগে। খুব মন কাঁড়া গল্প। আজ আবার পড়লাম আপনার অনুবাদ। সেই একই অনুভূতি। খুব ভালো লাগলো শরীফ ভাই। ধন্যবাদ আপনাকে।

এক গ্লাস দুধ
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৪৮
অজস্র ধন্যবাদ আপনাকে।
অনেক অনেক ভালো থাকুন।
Sadatsabujসাদাত সবুজ১১ এপ্রিল ২০১৩, ১১:৪৭


ইসপের গল্প ।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৪৯
ধন্যবাদ সবুজ ভাই।
sadi2005গহীন১১ এপ্রিল ২০১৩, ১৩:০৯
দারুণ শিক্ষণীয় গল্প। মন থেকে কাউকে কিছু দিলে, বিধাতা তার খুশি হয়ে তার চেয়ে বেশী ফেরত দেন। ধন্যবাদ শরীফ ভাই।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৫০
দারুণ শিক্ষণীয় গল্প। মন থেকে কাউকে কিছু দিলে, বিধাতা তার খুশি হয়ে তার চেয়ে বেশী ফেরত দেন।

সত্যি বলেছেন গহীন ভাই।
শুভেচ্ছা জানবেন।
AsgarkhanRenalআজগর খান রেনাল১১ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:০৯
ভ‍াল লাগল গল্প।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৫১
ভালো লাগলো আপনার কমেন্ট পেয়ে।
শুভেচ্ছা জানবেন।
nomaansarkarনোমান সারকার১১ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৫৪
অসাধারণ গল্প। চোখে পানি এসে গেল।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৫২
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
শুভেচ্ছা সতত।
lnjesminলুৎফুন নাহার জেসমিন১১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৭
আমরা কেন এমন করে নিজেদের ভালো কাজে নিবেদিত করতে পারি না । গল্পটি আজ আরও একবার পড়ে বুকের ভিতর কেমন করে উঠলো ।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৫:৫৩
আমরা কেন এমন করে নিজেদের ভালো কাজে নিবেদিত করতে পারি না । গল্পটি আজ আরও একবার পড়ে বুকের ভিতর কেমন করে উঠলো ।

শুভেচ্ছা জানবেন।
খুব ভালো থাকবেন।
aihena039আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম১১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:১২
সুন্দর অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া গল্প। মানবতার জয়গান। ধন্যবাদ ভাই শরীফ উল্লাহ। মূল গল্পকারের নাম জানতে পারলে আরও ভালো লাগতো।
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:০০
সুন্দর অন্তর ছুঁয়ে যাওয়া গল্প। মানবতার জয়গান। 
সত্যি হার্ট টাচিং গল্প।
অসংখ্য ধন্যবাদ আবু হেনা ভাই। লিখকদের নাম ছাড়া গল্প সংগ্রহ থেকে সংগৃহীত। পরে ট্রাই করব রাইটারের নামটা খুঁজে বের করতে।

শুভেচ্ছা জানবেন।
azmalamgirএ জেড এম আলমগীর১১ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৫
bonofolএইচ এম শরীফ উল্লাহ১২ এপ্রিল ২০১৩, ১৬:০১
 শুভেচ্ছা নিন।



No comments:

Post a Comment