Saturday, March 23, 2013

অকৃতজ্ঞ এবং স্বার্থপরের ব্যর্থতা (নৈতিক শিক্ষামূলক গল্প)


————————
এইচ এম শরীফ উল্লাহ
——————
Gold coins
কোন এক সময়, একজন অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর মানুষ ছিলো।
সব সম্পদের মালিক হোক সেই, এটা সে পছন্দ করতো।
সে তার কোন কিছু কারও সাথে শেয়ার করতো না, এমন
কী কোন গরিব বা বন্ধুর সাথেও না।
একদিন, মানুষটি ত্রিশটি স্বর্ণ মুদ্রা হারিয়ে ফেললো। তো
সে তার বন্ধুর বাড়ি গেলো। তার এ স্বর্ণ মুদ্রা হারিয়ে যাওয়ার
দুঃখের কথা বন্ধুকে বললো। তার বন্ধুটি ছিলো একজন খুব সৎ
এবং দয়ালো ব্যক্তি।
বন্ধুর মেয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরতে গিয়ে বাড়ি ফিরার
পথে একটি থলে পেলো, এতে ত্রিশটি স্বর্ণ মুদ্রা ছিলো। যখন সে
বাড়ি পৌঁছলো, রাস্তায় সে কী পেলো তা তার বাবাকে জানালো।
বাবা মেয়েকে বললো যে, এই স্বর্ণ মুদ্রা তার এক বন্ধুর এবং
তিনি তার বন্ধুকে বাড়ি আসার জন্য ডেকে পাঠালেন। যখন
সেই অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর মানুষটি তাদের বাড়ি এসে পৌঁছল,
তখন তিনি তাকে বললেন যে, কীভাবে তার মেয়ে এই স্বর্ণ
মুদ্রাগুলো পেলো।এবং তিনি বন্ধুকে এগুলো ফেরত দিলেন। স্বর্ণ
মুদ্রাগুলো গণনা করে সে মিথ্যা কথা বললো যে, তার থলেতে
চল্লিশটি স্বর্ণ মুদ্রা ছিল। দশটি স্বর্ণ মুদ্রা এখানে কম আছে এবং
এগুলো বালিকাটি নিয়ে গেছে। তখন সে হুমকি দিয়ে বললো যে,
বাকী ১০টি স্বর্ণ মুদ্রা তার কাছ থেকে আদায় করে নিবে।কিন্তু
বালিকাটির বাবা অস্বীকার করলেন।
স্বার্থপর ও অকৃতজ্ঞ মানুষ্টি স্বর্ণ মুদ্রাগুলো না নিয়ে আদালতে
চলে গেলো; বিচারকের কাছে এভাবে মিথ্যা দাবি জানালো।
বিচারক বালিকা ও তার বাবাকে ডেকে পাঠালেন; এবং যখন
তারা আদালতে পৌঁছলেন, বিচারক বালিকাকে জিজ্ঞেস করলেন
যে, কয়টি স্বর্ণ মুদ্রা সে পেয়েছিলো। উত্তরে সে বললো, ৩০টি
স্বর্ণ মুদ্রা। তখন বিচারক স্বার্থপর ও অকৃতজ্ঞ মানুষটিকে জিজ্ঞেস
করলো যে, কয়টি স্বর্ণ মুদ্রা সে হারিয়েছিলো; এবং সে উত্তর দিলো
যে, ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা। তখন বিচারক তাকে বললেন যে, এ কুড়িয়ে
পাওয়া স্বর্ণ মুদ্রাগুলো তার না। কারণ, বালিকাটি পেয়েছে ৩০টি স্বর্ণ
মুদ্রা,৪০টি না; আর সে হারিয়েছে ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা। সুতরাং এগুলো
তার না।
তখন বিচারক বালিকাকে বললেন যে, সে যেন এই স্বর্ণ মুদ্রাগুলো
নিয়ে যায়। যদি অন্য কেউ এগুলোর খোঁজে রিপুর্ট করে, তবে তিনি
বালিকাকে ডেকে পাঠাবেন।
বিচারক স্বার্থপর মানুষটিকে বললেন যে, যদি কোন ব্যক্তি ৪০টি
স্বর্ণ মুদ্রা পেয়ে তাঁকে রিপুর্ট করে, তবে তিনি তাকে ডেকে পাঠাবেন।
পরে স্বার্থপর স্বীকার করলো যে, সে মিথ্যা কথা বলেছিলো। আসলে
তার ত্রিশটিই স্বর্ণ মুদ্রা হারিয়ে গিয়েছিলো; কিন্তু বিচারক আর
তার কোন কথাই শুনলেন না।
শেষ কথাঃ এই গল্পটি আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, সর্বদা সৎ হতে
হবে এবং অসৎ ব্যক্তির জন্য ব্যর্থতা অপরিহার্য।
অনূদিত

রেটিং করুন:
Rating: 0.0/5 (0 votes cast)
Rating: 0 (from 0 votes)
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
▽ এই পোস্টের ব্যাপারে আপনার কোন আপত্তি আছে?

১০ টি মন্তব্য (লেখকের ৫টি) | ৫ জন মন্তব্যকারী

  1. নাজমুল হুদা : ১৩-০৭-২০১২ | ৯:৪৩ |
    Delete
    ঈশপের গল্পের মত নীতিকথা দিয়ে সমাপ্তি! বাহ! বেশ লাগলো।
    বিচারকের বিচক্ষণতায় মুগ্ধ হলাম
    শুভ কামনা।
  2. ফকির আবদুল মালেক : ১৩-০৭-২০১২ | ১০:৫৬ |
    Delete
    সর্বদা সৎ হতে
    হবে এবং অসৎ ব্যক্তির জন্য ব্যর্থতা অপরিহার্য।
    বিশ্বাস করা কঠিন।
    শুভ কামনা সব সময়।

No comments:

Post a Comment